বর্ষার ছোঁয়ায় চায়ের রাজ্য সিলেট হয়ে ওঠে সবুজ থেকে সবুজতর

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রেমে পড়েছিলেন বর্ষা ঋতুর। তার অসংখ্য রচনায় তিনি তার বর্ষাপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি লিখেছেন ‘যায় দিন শ্রাবণ দিন যায়’।

হ্যাঁ. এখন সেই শ্রাবণ চলছে আর এখনই উপযুক্ত সময় রূপের রানি সিলেট ভ্রমণের। 

বর্ষার ছোঁয়া পেয়ে চায়ের রাজ্য সিলেট হয়ে ওঠে সবুজ থেকে সবুজতর। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনাগুলো বেয়ে নেমে আসা পানি সীমানা ছাড়িয়ে চলে এসেছে বাংলাদেশে আর সেই পানি পেয়ে পূর্ণ যৌবন পেয়েছে বিছনাকান্দি বা পান্থুমাইয়ের মতো দর্শনীয় জায়গাগুলো।

সপ্তাহান্তে বেরিয়ে পড়ুন রূপের রানি সিলেটের পথে। খুব বেশি ভাবার দরকার নেই। নিচের ভ্রমণ পরিকল্পনাটি অনুসরণ করে খুব সহজেই বেড়িয়ে আসতে পারবেন দুটো দিন।

দিন ১: রাতের বাসে বা ট্রেনে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে যান সিলেটের উদ্দেশে। ভোরবেলা সিলেটে পৌঁছে, মূল শহরে পছন্দমতো কোনো হোটেলে ব্যাগ রেখে, ফ্রেশ হয়ে, নাশতা খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন। দলবল ভারী হলে মাইক্রোবাস অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে রওনা হন হাদারপারের দিকে। প্রথমে যান পান্থুমাই। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরতে পারেন পান্থুমাই আর বিছনাকান্দি। যাওয়া-আসা, ঘোরাঘুরিসহ পুরোটা দিনই লেগে যাবে ঘুরতে। বিছনাকান্দি থেকে ফিরে হোটেলে বিশ্রাম করুন। সন্ধ্যায় বা রাতে যেতে পারেন সুরমা রিভার ক্রুজে। নদীর বুকে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে রাতের খাবার সারতে খুব একটা খারাপ লাগার কথা নয়।

দিন ২: খুব সকালেই রওনা হয়ে যান জলাবন রাতারগুলের পথে। সেখানে পৌঁছে সময় নিয়ে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে উপভোগ করুন পুরো জায়গাটা। সিলেট শহরে ফেরার পথে পছন্দমতো কোনো চা বাগানে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিতে পারেন। দুপুরের মধ্যেই শহরে পৌঁছে বিখ্যাত পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন দুপুরের খাবারটা। এরপর শাহ জালালের মাজার ঘুরে উঠে পড়ুন ঢাকাগামী বাস বা ট্রেনে।  

 সাবধানতা

  • প্রথম দিন দুপুরে বাইরে খেতে হবে এবং পথে মানসম্মত হোটেল নাও পেতে পারেন, তাই সঙ্গে রাখুন কিছু শুকনো খাবার অথবা ভালো কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার প্যাক করে নিয়ে যান।
  • বিছনাকান্দি বা পান্থুমাই এলাকা ভারতীয় বর্ডারের পাশেই, তাই বাংলাদেশের সীমানার মাঝেই নিরাপদে থাকুন।
  • বিছনাকান্দির সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে যেকোনো দিকে পানিতে নেমে পড়বেন না। এখানে স্রোত প্রচণ্ড শক্তিশালী। সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখুন। সাঁতার জানলেও সাবধানে থাকুন।
  • রাতারগুল জলাবনে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেষ্ট থাকুন। বনের মধ্যে হৈ-হুল্লোড় করে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
  • যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে প্রকৃতি নষ্ট করবেন না।

শুভ হোক আপনার সিলেট ভ্রমণ।