স্বর্ণের দাম নিয়ে দেশে তুলকালাম কাণ্ড

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাপক দরপতন মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গত এক সপ্তাহ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় এক শতাংশ বাড়লেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়নি। এতে লোকসানে স্বর্ণ বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৪৫৪ ডলার। এরপর করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬০ ডলারে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়। ফলে

এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৬১ হাজার ৫২৭ টাকায় উঠে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫৯ হাজার ১৯৪ এবং ১৮ ক্যারেটের ৫৪ হাজার ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয় ৪১ হাজার ৪০৭ টাকা। তবে মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়। এক ধাক্কায় দাম কমে প্রতি আউন্স ১৪৬৯ ডলারে নেমে আসে। এ প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সেসময় ভরিতে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে ৬০ হাজার ৩৬১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫৮ হাজার ২৮ এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫৩ হাজার ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪০ হাজার ২৪১ টাকা। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৭৩ ডলার বা ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, মহামারির কারণে বিশ্ব মন্দার দিকে গেলেও স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে। দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়বে। বিশ্বে মন্দা দেখা দিলে মেটালের চাহিদা বেড়ে যায়, এ কারণে স্বর্ণের দামটা বেড়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের এখানে বিক্রি একেবারেই নেই, এ কারণে দাম সেভাবে বাড়েনি। চাহিদা বাড়লেই দাম বেড়ে যাবে।

এদিকে জানুয়ারি মাসে যে স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ৪৮ হাজার ৯৮৮ টাকা ছিল, সোমবার থেকে ভরি প্রতি সেজন্যে আপনাকে প্রায় সাত হাজার টাকা বেশি খরচ করতে হবে। এখন থেকে ভরি-প্রতি স্বর্ণের দাম পড়বে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এই বছর জানুয়ারি মাসে দু’দফায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিল এই সমিতি। নতুন অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণার পর দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েক দফা। এদিকে বাংলাদেশে স্বর্ণ ব্যবসার উপর সেই অর্থে সরকারের এখনো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ আছে। দেশে কী পরিমাণে স্বর্ণ রয়েছে তার কোন সঠিক হিসেবও তাদের কাছে নেই। বাংলাদেশে সরকার সম্প্রতি একটি স্বর্ণ নীতিমালা করেছে।

অপ্রদর্শিত স্বর্ণকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণের ডিলার নিয়োগ দিয়ে স্বর্ণ আমদানির কথাও বলা হচ্ছিল। সেসব বিষয়ে যদিও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর সাথে কিছু সম্পর্কে দেখতে পাচ্ছি। স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তো আগেও বেড়েছে। কিন্তু এখন তারা দামের সামঞ্জস্য করতে হচ্ছে বলছে কেন?